রিজিক বর্তমান যুগে এ যেন এক আতঙ্কের নাম। এই অসুস্থ সমাজে এ যেন সবচেয়ে বড় ব্যাধি। যে দিকেই তাকাই শুদু একটাই জিনিস সেটা রিজিক, রিজিক এবং রিজিক। অথচ এই রিজিকের মালিক তো মহান আল্লাহ্। আপনি কয়টি ভাতের দানা এই দুনিয়াতে ভক্ষণ করবেন ,কয়টা আম খাবেন, কয়টা আপেল খাবেন, কয়টা মোরগ, কয়টা মাছ খাবেন সেটা তো আপনার আমার রিজিকে মহান আল্লাহ্ সেই কবেই লিখে রেখেছেন। মহান আল্লাহ্র দেওয়া রিজিকের চেয়ে বেশি একটি ভাতের দানা আপনার আমার পক্ষে খাওয়া সম্ভব নয়। তবুও এ যেন এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। আমরা আসলে কিসের পিছনে ছুটছি, আমাদের জীবনের লক্ষ্য কি তা আমরা নিজেই জানি না। দুনিয়ার লোভ না করে যদি আমরা আখেরাতের লোভ করতাম তাহলে আমাদের জীবন কতই না সহজ হয়ে যেত। তাইতো আমরা হালাল হারাম এর পরোয়া না করে যেকোনো সোর্স থেকে টাকা কামাই করে যাচ্ছি।
সদ্য দ্বীনে ফেরা ছেলেটি একমনে এসব চিন্তা করেই যাচ্ছে। তখনি তার মা তার চিন্তার মধ্যে ব্যাঘাত ঘঠিয়ে বললেন “এই জীবনে কি করবি তা কি ভেবে দেখেছ বাবা”। ছেলেটা মনে মনে এক গভীর নিশ্বাস ছাড়ল কারন এখন আবার তার মাকে সেই আগের কথাগুলো বুঝাতে হবে।
ছেলেটির পরিবার মধ্যবিত্ত। তার বাবার বয়সও অনেক কিন্তু তিনি এখনও বাঁচার তাগিদে রুজগার করেই যাচ্ছেন।ছেলেকে বাইরের কোনো দেশে দিয়ে একটু সস্থির নিঃশ্বাস ছাড়বেন এটাই তার একমাত্র চিন্তা। একবার চেষ্টা করেছেন কিন্তু কোনো লাভ হয় নি। ছেলে প্রথম চেষ্টার সময় এত হারাম হালাল খেয়াল করে নি। কিন্তু আজকাল বাইরের দেশে যেতে হলে আপনার প্রচুর পরিমাণে টাকা থাকতে হবে কারণ একটাই তা হল ব্যাংক স্টেটমেন্ট। এখন ছেলের বাপের এত টাকা নাই যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাবেন ।তাহলে একটাই পথ আর তা হল ব্যাংক টাকা দেখাবে এবং চুক্তি শেষে ব্যাংককে কিছু টাকা দিতে হবে অর্থাৎ রিবা দিতে হবে।ছেলের এক কথা সে জীবনে সূদের টাকা খাবে না এবং দিবে ও না।তার মনে একটি কথা গেঁতে গিয়েছে ১ টাকা হারাম খাওয়া অথবা দেওয়া থেকে তার জন্য রিকশা চালানো উত্তম। তাই সে ডিরেক্ট জানিয়ে দিলো যে সে বিদেশ যাবে না বরং দেশেই কোনোকিছু করবে।
এবার পুর্বের কথোপকথন এ চলে আসি,
একটা লম্বা নিঃশ্বাস ছাড়ার পর সে তার মাকে বলল আল্লাহ্ কোনো ব্যাবস্থা করে দিবেন ইন শা আল্লাহ্।
মাঃ এই দেশে খাবি কি ?
ছেলেঃ আম্মু রিজিকের মালিক আল্লাহ্। আমি দেশে থাকলে যে আমার রিজিক কমে যাবে আর বিদেশ গেলে যে রিজিক বেড়ে যাবে জিনিসটা কিন্তু এমন নয়।
মাঃ তাহলে একটা কিছু তো করতে হবে নাকি?
ছেলেঃ ইন শা আল্লাহ্ আল্লাহ্ কোনো ব্যাবস্থা করে দিবেন এবং আমি হালাল রিজিকের তালাশ করবো ।
এইটা বলে ছেলে আরিফ আজাদের একটি লাইন বলল যে,,,,
“যে রিজিক আসমান থাইকা আসে তার লাগি এত টেনশন কিয়ের”
তার মা এটা শুনে চলে গেলেন । এই কথোপকথনটা যেন ছেলেটির জন্য প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গেছে।
ছেলেটি আবার তার চিন্তায় ফিরে গেলো, মানুষ দুনিয়াকে পাওয়ার জন্য কত কিছুই না করছে । টাকা হলে আরও টাকা চাই, এক বিঘা জমি থাকলে আরও ২ বিঘা জমি চাই, লাখপতি হলে কিভাবে কোটিপতি হওয়া যায় এরকম অসুস্থ চিন্তা। আহহহহহহহ ছেলেটা মনে মনে বলল ঐসব লোক ভবিষ্যতের জন্য ছুটেই চলেছে অতচ আমি তাদের একটি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারি সেটা হল মৃত্যু । অতচ মানুষ এমনভাবে চলাফেরা করতেছে মনে হয় তারা অমর ,,,,,,এসব ভেবে ভয় পায় সদ্য দ্বীনে ফেরা ছেলেটি । ছেলেটির আশেপাশের সকলেই যেন ছেলেটিকে দুনিয়াবিমুখ করে দিতে চায়। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় তাকে অংশগ্রহণ করানো যেন তাদের দায়িত্ব । ছেলেটি যে আল্লাহ্র প্রতি তাওয়াককুল করে সকল হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকতে চায় এটা তারা বুঝেনই না ।তাদের একটি কথা আমাদের সাথে আসো নাহলে তোমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার অথচ ভবিষ্যৎ এর খবর তো একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই জানেন।
ছেলেটির মনে তার রবের একটি বাণী আসলো ,
যে আল্লাহ্কে ভয় করে , তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দিবেন তা সে কল্পনাই করতে পারবে না।আর যে আল্লাহ্র উপর তাওয়াককুল করে আল্লাহ্ তার জন্য যথেষ্ট। — সূরা আত ত্বালাক আয়াত ২ও৩
ছেলেটি ভাবলো আমিতো একমাত্র আল্লাহ্র খুশির জন্যই এতকিছু ত্যাগ করলাম অবশ্যই আল্লাহ্ আমাকে এর প্রতিদান দিবেন।
আর আমার জন্য তো স্বয়ং আল্লাহ্ আছেন আমার আর কি লাগে। যিনি এই বিশ্বের সকল মানুষ থেকে শুরু করে একটি পিঁপড়েরও রিজিকের ব্যাবস্থা করে থাকেন তিনি যদি আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান তাহলে আমার আর কি লাগে।
এই কথা গুলো ভেবে একতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ছেলেটি একইসাথে আগামীকালের জন্য আবার প্রস্থুতি নেয়।
গল্পটি বলার একটিই উদ্দেশ্য তা হল আমরা অনেক সময় এটা বিশ্বাস করি না যে রিজিক মহান আল্লাহ্র হাতে।আমরা মুখে যতি না বলি রিজিক আল্লাহ্র হাতে আমরা কাজের ক্ষেত্রে ততটা তা অবিশ্বাস করি।এটা প্রমাণ করা লাগবে না আশেপাশে থাকালেই বুঝতে পারবেন। তিনি যাকে দিবেন তা তার কাছ থেকে নেওয়ার ক্ষমতা কারোরই নেই আর যার কাছ থেকে কিছু কেড়ে নিবেন তাকে তা দেওয়ার সামর্থ কারোরই নেই। কিন্তু তাই বলে আমাদের বসে থাকলে হবে না। আমাদের আল্লাহ্র উপর তাওয়াককুল রেখে হালাল রিজিকের খোঁজে বেরিয়ে পড়তে হবে। আল্লাহ্ এই জমিন প্রসস্থ করেছেন আমাদের জন্য যাতে করে আমরা তার দেওয়া নিয়ামত আহার করতে পারি।
আল্লাহ্ তায়ালা সূরা মুলক্ এর ১৫ তম আয়াতে বলেছেন ,
“ তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তার রিজক থেকে তোমরা আহার কর। আর তার নিকটই পুনরুত্থান।”
তাছাড়া অনেকে আবার হালাল রুজি করতে চান আবার সমাজের স্ট্যাটাসও চান। এটা এমন যে আপনি হালাল ইনকাম করতে চান ব্যাংক এ চাকরি করে (এখনকার বেশিরভাগ ব্যাংকই সুদের সাথে জড়িত)। প্রিয় ভাই আপনি যদি হালাল ইনকাম করতে চান আর এগুলোর মধ্যে ভাবও রাখতে চান তাহলে আপনার হালাল ইনকাম করা অনেক কষ্টকর হয়ে যাবে। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের ভাবকে বিসর্জন দিয়ে যদি আপনি হালাল কোনও কাজ (কাজটি ছোটই হোক) করেন তাহলে আল্লাহ আপনার কাজে বরকত দিবেন। মহান আল্লাহ্ই তো বলেছেন,
“অচিরেই তোমার রব তোমাকে এত দিবেন ফোলে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাবে”। — সূরা আদ দুহাঃ ৫
.
ক্রেডিট: মোহাম্মদ আলী।
Tariqul Islam's Fun Page Keep life happy with worship